।। রেল নিউজ ।।
ঢাকা মেট্রোরেলের অপারেশন টিমে যুক্ত হয়েছেন মরিয়ম ও আসমা নামে দুই নারী। ডিসেম্বরের উদ্বোধনী বহরেই তাদের থাকার কথা।
চার পর্বের প্রশিক্ষণের তৃতীয় পর্বে থাকা এ দুজনের শেষ প্রশিক্ষণ হবে ভারতে।
নিয়ম করে এখন প্রতিদিনই হচ্ছে মেট্রোরেলের পারফরম্যান্স টেস্ট। চলতি কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে দিনে-রাতে হচ্ছে পরীক্ষামূলক চলাচল। সেই সঙ্গে চলছে চালক কিংবা অপারেটরদের প্রশিক্ষণ পর্বও।
একজন প্রশিক্ষকের অধীনে এ পর্বের পারফরম্যান্স টেস্ট পরিচালনা করছেন ডিএমটিসিএল পুলের অপারেটররা। পরিচালনা করছেন পরীক্ষামূলক এ চলাচল। আর এ পুলে যুক্ত হয়েছেন দুজন নারী অপারেটর। পুরো নাম মরিয়ম আফিজা আর আসমা আক্তার। তারা হবেন দেশের প্রথম মেট্রোরেলের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রার নারী সঙ্গী।
সাক্ষাৎকারে তাদের স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে মরিয়ম বলেন, এ কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি খুব খুশি। পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু টানেলের পরে মেট্রোরেল দেশে চালু হচ্ছে, সেই রকম একটা স্বপ্নের সঙ্গে সরাসরি থাকতে পারাটা একটা স্বপ্নের মতোই।
প্রশ্নঃ প্রথম মেট্রোরেল চালক হিসেবে, নারী হয়ে এ পেশায় আসাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এটি পরিবার-পরিজন কীভাবে নিয়েছে এ নিয়ে যদি কিছু জানাতেন।
জবাবে মরিয়ম বলেন, আসলে চ্যালেঞ্জ বলতে আমি যখন এ কাজে যোগদান করি, ওই সময় সবাই আমাকে সাহস দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কঠিন কোনো সমস্যায় পড়িনি।
মরিয়ম ট্রেন অপারেটর আর আসমা স্টেশন ম্যানেজমেন্টে নিয়োগ পেলেও তাদের দুজনকেই দেয়া হচ্ছে রেল পরিচালনা আর স্টেশন ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ।
মরিয়ম আফিজা বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
আপনি যে মেট্রোরেল চালাচ্ছেন সেই সময়টা কেমন লেগেছে আপনার-
এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খুবই রোমাঞ্চকর ছিল সেই সময়টা; আনন্দের একটা ব্যাপার; এ রকম একটা কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছি বলে। আমাদের দেশে নারীরা তো সব সেক্টরে আছে, যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বিমান চালানো, ট্রেন চালানো- সব সেক্টরে মেয়েদের অবদান আছে। তাহলে এই মেট্রোরেল চালানোটা খুব কঠিন বা চ্যালেঞ্জিং কিছু না, আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি এবং আশা করছি ভালো কিছু দিতে পারব।
লেখাপড়ার শুরু ও শেষ কোথায়-
এমন প্রশ্নে মরিয়ম জানান, ঢাকার টঙ্গী থেকে স্কুল ও কলেজ শেষ করেছি; এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপলাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। সেখান থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স করেছি। এখানে কাজের পরিবেশ খুব ভালো, আমার যেসব সহকর্মী আছেন, তারা সবাই সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। আমাদের যে কোম্পানি (ডিএমটিসিএল) তারা সেই পরিবেশটা বজায়ে রেখেছে, যেন মেয়েদের কাজ করতে কোনো অসুবিধা না হয়।
তিনি বলেন, নারী হিসেবে নয়, বরং ডিএমটিসিএল-এর একজন কর্মী হিসেবেই কাজ করছি আমরা। সবার সহযোগিতায় নতুন এ রোমাঞ্চকর ক্যারিয়ারে সবার অপেক্ষা এখন ডিসেম্বরের।
ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু, হতে পারে আপনার হাত ধরেই চলবে আর সেই ট্রেনে প্রধানমন্ত্রী আছেন, তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে এবং আপনি প্রস্তুত কিনা?
এমন প্রশ্নের জবাবে মরিয়ম বলেন, আসলে ওই দিনটাও হবে একটা স্বপ্নের মতো। আমরা স্বপ্ন বুনছি, মেট্রোরেল পরিচালনা করব এবং সেই দিন আমরা কীভাবে কী করব, আসলে কল্পনায় সেসব নিয়ে স্বপ্ন বুনছি। ভালো লাগাটা বলে শেষ করা যাবে না, দেখা যাক।
এ কাজে যুক্ত হয়ে আপনার কেমন লাগছে-
এ প্রশ্নের জবাবে মেট্রোরেলের স্টেশন কন্ট্রোলার আসমা আক্তার বলেন, এ কাজে আসতে প্রথমে আমার অনেক কৌতূহল জেগেছিল। যখন বিজ্ঞপ্তিতে দেখি মেট্রোরেল একটা আধুনিক প্রযুক্তি, দেশে প্রথম এবং সবার জন্য একটা স্বপ্ন- তখন আবেদন করি। অনেক ধরনের পরীক্ষা হয়েছে আমাদের। তারপর নিয়োগপত্র পাই। এরপর আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণের শুরুতেই স্টেশন নিরাপত্তা কাজ দিয়ে শুরু হয়েছে। যেহেতু এটি সংক্রিয়ভাবে চলাচল করবে সেহেতু সব বিষয় নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ চলছে। ঢাকাতেই পড়াশোনা করেছি; মাস্টার্স করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে (পদার্থবিজ্ঞান)। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। আমরা অপেক্ষায় আছি, কবে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।
মেট্রোরেল অপারেশনে এরই মধ্যে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে আছেন ৫৯ জন। বাকি ৩০ জনের নিয়োগ এখনও প্রক্রিয়াধীন।
সূত্রঃ সময়নিউজটিভি