।। নিউজ ডেস্ক ।।
‘জম্মু ও কাশ্মীর’ এর রেসি জেলার বাক্কাল ও ক্যুরির মধ্যে একটি ইস্পাত এবং কংক্রিট খিলান যুক্ত রেল সেতু, যেটির নাম চেনাব সেতু। মুসলিম অধুষ্যিত ভারতের এই পাহাড়ি অঞ্চলের সাথে মূল ভূখণ্ডের সাথে রেল যোগাযোগ তথা দিল্লি-শ্রীনগর যোগাযোগ স্থাপন করতে এই সেতু তৈরি। সেতু বানানোর কাজ শেষ হয়ে গেলে সেতুটি চেনাব নদীর তলদেশ থেকে ৩৫৯ মিটার (১,১৭৮ ফুট) উচ্চতায় পৌঁছাবে। বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতুতে পরিণত হবে এটি।
২০১৭ সালের নভেম্বরে মূল সহায়তাকারী নির্মাণের জন্য বেস সাপোর্টগুলি সম্পূর্ণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। চেনাব নদীর উপর নির্মিত এই রেলওয়ে আর্চ তথা ধনুকের ন্যায় গোলাকার ব্রিজটির উচ্চতা ৩৫৯ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১,৩১৫ মিটার। মেঘের উপর বৃত্ত আকৃতির এই সেতুটি কোনও বিস্ময়ের চেয়ে কম নয়।
এই রেলওয়ে ব্রিজটির বিশেষত্ব হল এর উচ্চতা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চেয়ে ৩৫ মিটার বেশি। এর পাশাপাশি এই সেতুর উচ্চতা চীনের বেপান নদীর ওপর নির্মিত ডুগ সেতুর উচ্চতার চেয়েও বেশি। চেনাব সেতু মেঘের উপরে বিশ্বের সর্বোচ্চ ইস্পাত ও কংক্রিটের তৈরি বৃত্ত।

ছবিতে এই সেতুর উচ্চতা এমন যে এর নীচে মেঘও দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় রেলওয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলেই সেতুটির চূড়ান্ত বৃত্ত জুড়ে দেয়ার কাজটি সম্পন্ন করেছিল। এই সেতুটির মূল উদ্দেশ্য হল কাশ্মীর উপত্যকার সংযোগ বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে এই সেতুতে এমনভাবে ট্র্যাক বসানো হবে যাতে ট্রেনটি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তর রেলওয়ে বিভাগ ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল সংযোগের ১১১ কিলোমিটারের সবচেয়ে কঠিন অংশটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে রয়েছে। আশা করা যায় এ বছরের ডিসেম্বরেই রেল যোগাযোগের জন্য ব্রিজটি খুলে দেয়া হবে।
যেখানে চেনাব সেতু তৈরি হচ্ছে তার চারপাশের পাহাড়ের জমি বেশ কাঁচা। এমতাবস্থায় কাঁচা পাহাড় আর পাথরের মধ্যে এত বড় সেতু নির্মাণ ভারতীয় উপমহাদেশে একটি দৃষ্টান্ত ও অলৌকিক ঘটনা। এখন এই সেতু নির্মাণের কাজ শেষের পথে। জানা গিয়েছে, -১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও এই সেতুর উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।
এই সেতুটি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে চলাচলকারী বায়ুকে সহজেই সহ্য করবে। একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও অন্য যে কোনও ধরনের হামলা থেকে সেতুটিকে রক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেতুর এক পাশের পিলারের উচ্চতা প্রায় ১৩১ মিটার।