শিরোনাম

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ হবে জাপানের ঋণে

প্রতীকী ছবি

।। রেল নিউজ ।।
খরচ কমিয়ে কাজ করতে নারাজ চীন সরে যাওয়ায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে হবে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ। গত জুনে জাইকা প্রকল্পটির সমীক্ষা হালনাগাদ শুরু করেছে। আগামী মাসে প্রতিবেদন দেবে।

আজ সোমবার ( ১২ সেপ্টেম্বর) রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে জাইকার সঙ্গে বৈঠক হবে। এতে সংস্থাটির মিশনপ্রধান হিরোশি ইয়োশিদাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। রেল সূত্র জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে প্রকল্পের সমীক্ষার হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য ও অর্থায়ন বিষয়ে আলোচনা হবে। জাইকা গত বছরের অক্টোবরেই জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ জানিয়েছে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরে যে ২৭ প্রকল্পে ২২ বিলিয়ন ডলার ঋণ (জিটুজি) দিতে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, এর একটি জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এতে চীনের ৮ হাজার ৭৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।

জিটুজি ঋণের শর্তানুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। দেশটির চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিইসিসি) কাজ পেয়েছিল। উন্মুক্ত দরপত্র না হওয়ায় দরকষাকষির মাধ্যমে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছিল।

ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) ঠিকাদারের সঙ্গে ১১ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চুক্তি অনুমোদন করে ২০১৯ সালে। এই টাকায় ১৬২ কিলোমিটার মূল লাইনসহ ১৯৮ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ৫৯ কোটি টাকার বেশি দাঁড়ায়। কিন্তু আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত সমজাতীয় রেললাইন নির্মাণে কিলোমিটারে খরচ ১৯ কোটি টাকা।

বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি আলোচনায় এলে পরিকল্পনা কমিশনের কমিটি ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা খরচ কমাতে সুপারিশ করে। আখাউড়া-সিলেট ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১৬ হাজার ১০৪ কোটি থেকে ৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা কমাতে সুপারিশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালের নভেম্বরে দুই প্রকল্পে ৪ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা ব্যয় কমাতে অনুশাসন দেন। চীনের জিটুজি ঋণে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুরে রেলপথের সমান্তরালে ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পেও খরচ কমাতে বলেন সরকারপ্রধান।

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথ প্রকল্পে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা কমে কাজ করতে রাজি হননি চীনা ঠিকাদার। তিন রেল প্রকল্প থেকেই চীন সরে গেলে বিকল্প অর্থায়নের খোঁজ করে সরকার। রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, জাইকাকে প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রেলপথে অর্থায়নে রাজি।

রেল সূত্র জানিয়েছে, বাড়তি খরচের কারণে চীনকে বিদায় দিলেও কয়েক বছর বিলম্বে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে। জাইকার কাছে ১০৩ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। ডলার, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় আগে প্রাক্কলন করা খরচকে নিশ্চিতভাবেই ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যও পূরণ সম্ভব হবে না।

রেল সূত্রে জানা গেছে, জয়দেপুর থেকে যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ৮৫ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এবং ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ৭৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার- এ দুই ভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় জাইকা। এলেঙ্গায় নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দুই অংশে সাতটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং ১৪টি স্টেশন সংস্কার করা হবে। ৬৬টি বড় এবং ১৩৮টি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার ১০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। নাটোরে ভূমি মালিকদের ইতোমধ্যে ৭ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৬ দশমিক ৬ ভাগ। প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার পুরোটাই সরকার দিয়েছে।

সূত্রঃ সমকাল


Comments are closed.