শিরোনাম

রেলের প্রতি জনগণের আস্থা বিনষ্ট করা যাবে না

রেলের প্রতি জনগণের আস্থা বিনষ্ট করা যাবে না

সালাহ্উদ্দিন নাগরী:
গত ২৩ জুন সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় একটি কালভার্ট পার হওয়ার সময় রাত ১১টার দিকে দুর্ঘটনায় পতিত হলে শেষের তিনটি বগির দুটি খালে ও একটি রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে।দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া বগি তিনটিতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনায় প্রায় দেড়শ’ জন আহত হন। ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে গত দেড় বছরে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ মাধবপুরের ইটাখোলার রেলব্রিজে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পাঁচ দিন বন্ধ ছিল।

এ দুর্ঘটনায় এবার পত্র-পত্রিকা ও জনমানুষের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বেশি হচ্ছে। প্রায় সব পত্রিকায় এ নিয়ে সম্পাদকীয় লেখা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ সড়কপথ, পানিপথ অপেক্ষা সবদিক বিবেচনায় রেলপথকে বেছে নেয় সবার আগে। কিন্তু এখন আর অন্ধভাবে রেলপথকে নিরাপদ ভাবতে পারছে না। তাহলে কি রেল ভ্রমণে মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে? কেন এ অবস্থা?২৫ জুন যুগান্তরের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাংলাদেশ রেলওয়ের সেতুগুলোর বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ; ফলে একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। রেলসেতু ভেঙে যাওয়া বা দেবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। রেলপথে লাইনচ্যুতির ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে।

কিন্তু রেলসেতুকেন্দ্রিক দুর্ঘটনাগুলোই বেশি ভয়াবহ। সংশ্লিষ্টরা বলছে, ৭০ থেকে ১০০ বছরের কিংবা তারও বেশি পুরনো সেতুগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের মতে, নির্মাণের ৫০-৫৫ বছর পর সেতুর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। দেশের ৯০ শতাংশ সেতুর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

১৯১৫ সালে সিলেট কুলাউড়া রেল সেকশন নির্মিত হয়। শতবর্ষী এ রেলপথের অনেক জায়গায় স্লিপার, ব্যালাস্ট, পাথর, ফিশপ্লেট নেই। অনেক রেলসেতুতে ভাঙাচোরা স্লিপার ঠিক রাখতে বাঁশ, বাঁশের কুচি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ চিত্র সারা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করছে।

রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ইঞ্জিন রয়েছে যথাক্রমে ৯৪ ও ১৭৯টি। মিটার গেজ ইঞ্জিনের ১৭৯টির মধ্যে ১৪০টি মেয়াদোত্তীর্ণ। একটি ইঞ্জিনের ইকোনমিক লাইফ বা কার্যক্ষমতা থাকে ২০ বছর। ব্রডগেজের ৯৪টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২৪টির বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে।

রেল স্টেশনগুলো এখনও মানসম্পন্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়নি। স্টেশনে টয়লেট-প্রস্রাবখানার অবস্থা খুবই নাজুক, কারও টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। গত বছর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় ফেরার জন্য শ্রীমঙ্গল স্টেশনের ভিআইপি ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলাম।

টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে কমোডে জমে থাকা মলমূত্র দর্শনে আমার বমি হওয়ার অবস্থা। টয়লেট ব্যবহার না করেই পড়িমড়ি বের হয়ে এলাম। এই যদি হয় ভিআইপি টয়লেট, তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা ভাবার কোনো প্রয়োজন নেই। প্লাটফর্মে যেখানে-সেখানে পান-বিড়ির টুকরা, পানের পিক, নাকঝাড়া, হাতের ময়লা টিস্যু ফেলা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আমরা কথায় কথায় সরকারকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পাবলিক প্লেসগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে জনগণের কি কোনোই দায়-দায়িত্ব নেই? আমরা কবে দায়িত্ববান হব? পাবলিক প্লেসগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অন্তত নিজে বাধা হয়ে দাঁড়াব না।

আন্তঃনগর কিছু ট্রেন ছাড়া অন্যান্য ট্রেনে জীর্ণশীর্ণ মলিন বগি, গদি উঠে যাওয়া সিট, লাইট-ফ্যান বিহীন গুমোট পরিবেশে ট্রেন জার্নি কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। ঈদ বা লম্বা ছুটিতে মানুষের ব্যাপক মুভমেন্ট ছাড়া অন্য সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী-পুরুষ-শিশু ছাদের উপরে উঠে বসছে।

‘দাঁড়ানো যাত্রী’তে গিজগিজ করে বগির করিডোর, কোনো দিকে কারও ঘাড় ঘোরানোরও উপায় থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ যাত্রীদের টয়লেট ব্যবহারে অসতর্কতার কারণে মহিলাদের পক্ষে, বিশেষত চলন্ত ট্রেনে, ওই টয়লেট ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে।

এরকম দুরবস্থায় অনেক মহিলাকে অস্বস্তি নিয়ে সারাটা জার্নি পার করতে হয়। ট্রেনে পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে পারলে তারা যাত্রাপথে একটু হলেও স্বস্তি পাবেন।

বেশ কয়েক বছর থেকে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ যাত্রীদের নতুন আতঙ্কে নিপতিত করেছে। যাত্রীরা আহত হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৩ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি এলাকায় চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে একজন প্রকৌশলী নিহত হয়েছিলেন।

অনেক ক্ষেত্রে জানালা বন্ধ রেখেও রক্ষা পাচ্ছে না যাত্রীরা। পাথর ছোড়ার কারণে জানালার কাচ ফেটে আহত হচ্ছেন অনেকে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হিসাবমতে, গত ৫ বছরে ট্রেনে ছোড়া পাথরে ২ হাজারের বেশি জানালা-দরজা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। শিশুরা ঢিল ছোড়ায় সম্পৃক্ত থাকলে তাদের অভিভাবককে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

পাথর ছোড়ার বিরুদ্ধে সরকার বহুবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রেলপথ কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দিরের প্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করে যাচ্ছেন।

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী ট্রেনে পাথর ছোড়ার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে দণ্ডবিধি ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রেলসংক্রান্ত আলোচনা করতে গিয়ে আরেকটি বিষয় ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখছে- আমাদের ট্রেনের বগির মেঝের উচ্চতা স্টেশনের প্লাটফর্মের উচ্চতা থেকে আড়াই-তিন ফুট পর্যন্ত বেশি হয়ে থাকে। এতে শুধু শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিই নয়, সব বয়সের নারী-পুরুষেরই ওঠা-নামায় অসুবিধা হয়।

তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। চাকার নিচে পড়ে পা কাটা যায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনার হার নেহায়েত কম নয়। উন্নত দেশের কথা বাদ দিলেও আমাদের পর্যায়ের অনেক দেশই ট্রেনের মেঝে ও প্লাটফর্মের উচ্চতা (চষধঃভড়ৎস ষবাবষ নড়ধৎফরহম) সমান করে ফেলেছে।

ওইসব দেশে পঙ্গু, অসুস্থ, বৃদ্ধ ব্যক্তি একা একা হুইলচেয়ার চালিয়ে ট্রেনে উঠে পড়তে পারে। আমাদের সব রেলস্টেশনে ক্রমান্বয়ে প্লাটফর্ম সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সব বয়সের যাত্রীর সুবিধা হবে।

এত কিছুর পরও আগের চেয়ে অনেক বেশি লোক ট্রেন সার্ভিসের প্রতি ঝুঁকেছে। কিন্তু ঢাকা মহানগরীতে দূরযাত্রার ভ্রমণে ট্রেনকে বেছে নিতে গেলে শুরুতেই কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ শহরে যানজটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে।
কর্মব্যস্ত মানুষ দাফতরিক বা অন্য কাজে ঢাকার বাইরে যেতে গেলে তাদের পক্ষে প্রথম পছন্দের ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করাটা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে। বিরাট এ নগরীর দূরতম প্রান্ত থেকে কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে বরাদ্দকৃত ছুটির একটি দিন এমনিতেই শেষ হয়ে যায়।

উপরের দুটি স্টেশন ছাড়াও ঢাকা শহরে গেণ্ডারিয়া, তেজগাঁও, বনানী ও সেনানিবাস এলাকায় আরও চারটি রেলস্টেশন আছে। যেসব ট্রেন ওইসব স্টেশনে থামে না, সেসব ট্রেনের টিকিট ওই স্টেশনগুলোতে পাওয়া যায় না।

ই-টিকিটিংয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই বলছি, আমাদের জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও ইন্টারনেট বা অনলাইন কার্যক্রমে পুরোপুরি ধাতস্থ হতে পারেনি। অনেক জায়গায় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সব ধরনের কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো যথেষ্ট পরিমাণ সবল নয়। ফলে সিংহভাগ মানুষকে কষ্ট স্বীকার করে স্টেশনে গিয়েই টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

ওই চারটি স্টেশন এবং শহরের আরও কয়েকটি পয়েন্টে রেলের টিকিট বিক্রির স্থায়ী কাউন্টার বা বুথ চালু করা যেতে পারে। এতে জনগণের টিকিট সংগ্রহজনিত কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব এবং সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে, রেলওয়ে আরও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানের পরিণত হবে।

৫ জুলাই ২২.৪২ মিনিটে যুগান্তরের অনলাইন খবরমতে, উপবন এক্সপ্রেসের যে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়, তার সর্বশেষটি ওই ৫ জুলাই লাইনের পাশ থেকে সরাতে এলাকায় ৫ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত মাইজগাঁও স্টেশনে এবং চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে আটকা পড়ে।

যাত্রাপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা খুবই বিরক্তিকর, আর সঙ্গে যদি শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধ ব্যক্তি থাকেন, তাহলে ভোগান্তির অন্ত থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রুটে ওই সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বা ট্রেনের সূচি পরিবর্তন করে জনভোগান্তি দূর করাটা কি বেহতের (যৌক্তিক) ছিল না?

ইউরোপের শিল্পবিপ্লব মানুষের জীবনযাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন মানবসমাজকে শুধু চমকিতই করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮২৫ সালে ব্রিটিশ প্রযুক্তিবিদ জর্জ স্টিফেনসন উদ্ভাবিত লোকোমোটিভ-লোকোমোশনের উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের স্টকটন থেকে ডার্লিংটন পর্যন্ত চলাচল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম রেলযাত্রায় পরিণত হয়।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় ঔপনিবেশিক বাংলায় রেল স্থাপনের জন্য ইংল্যান্ডে প্রাথমিক চিন্তাভাবনা হতে থাকে, যদিও এরূপ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক, ভৌগোলিক, কৌশলগত সুবিধাদিসহ বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা।

যা হোক, ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল বোম্বে থেকে থান পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার রেললাইন উদ্বোধনের মাধ্যমে ভারতে রেলের সূচনা ঘটে। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত স্থাপিত ৫৩.১১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রেলযাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে এখন ২৮৭৭.১০ কিলোমিটার রেললাইনের মাধ্যমে ৪৪টি জেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করেছে।

ট্রেন জার্নির কথা মনে পড়লে কত বিক্ষিপ্ত স্মৃতিই না এসে ভর করে। সেই সত্তর-আশির দশকের কথা, বাবার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে থাকি। বাড়ি যাওয়ার জন্য বাবা-মা, ভাই-বোনসহ রাজশাহী মেইলের রিজার্ভ কেবিনে চেপে বসা, গার্ডের সবুজ কাপড় উঁচিয়ে চালককে সিগন্যাল দেয়া, ঝিকির ঝিকির শব্দ- এসবই এখনও স্মৃতির পাতায় অম্লান।

আশপাশের গাছপালা, লাইটপোস্ট, রাতের মায়াবী চাঁদের ট্রেনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা, বুফেকারের অমৃতসম কাটলেট, রাতে সরু চালের ভাপ ওঠা ভাত, মুরগির পাতলা ঝোল, ভোররাতে কোনো স্টেশনে ট্রেনের সান্টিং, ফেরিওয়ালার ‘ডিম সিদ্ধ’, ‘চা গরমে’র ঘুম জাগানিয়া ডাক, ঢুলু ঢুলু চোখে সিদ্ধ ডিম খাওয়া এখনও মনকে বড় বেশি নস্টালজিক করে তোলে, টেনে নিয়ে যায় সেই সোনালি দিনগুলোর কাছে।

পৃথিবীতে ট্রেন যাত্রার বয়স দু’শ বছর হতে চলল। সময়ের পরিক্রমায় এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়, অর্থ সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহনে পরিণত হয়েছে। দেশে এ বাহনের প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে যে অনাস্থার ভাব তৈরি হয়েছে তা দূর করতে হবে।

রেলস্টেশন, প্লাটফর্ম, ট্রেনের বগি, ইঞ্জিন, ব্রিজ, কালভার্ট, স্লিপার, ফিশপ্লেট ও রেললাইনের সব ধরনের ত্রুটি মেরামত করতে হবে। অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাই আশা করা যায়, মানুষ শিগগির কাক্সিক্ষত রেলভ্রমণের স্বাদ পাবে।

সালাহ্উদ্দিন নাগরী : সরকারি চাকরিজীবী
snagari2012@gmail.com

সুত্র:যুগান্তর, ১৩ জুলাই ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.