শিরোনাম

রেলেই সুপ্ত রাঙা সম্ভাবনা

রেলেই সুপ্ত রাঙা সম্ভাবনা

নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণ না করে এখন থেকে রেলপথ সম্প্রসারণে জোর দেওয়ার যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে দিয়েছেন, আমরা তা স্বাগত জানাই। বস্তুত একটি জনবহুল ও সীমিত ভূমির দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথই প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত। এটা ঠিক, নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে প্রকৃতিপ্রদত্ত যে বিস্তীর্ণ নৌপথ ছিল এবং এখনও টিকে আছে, তাও হতে পারে সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত পথ। কিন্তু গতি ও গম্যতার হিসেবে রেলপথই বাস্তবসম্মত। অথচ আমরা সড়কপথে যে মনোযোগ ও অর্থ ব্যয় করেছি, তার সিকিভাগও রেলপথে নয়। বিলম্বে হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই নির্দেশনা নীতিগত পরিবর্তনে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী কেবল একনেকের বৈঠকে নির্দেশনা দেননি। একই দিন যুক্তরাজ্যের বিদায়ী হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে সহযোগিতাও চেয়েছেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম উড়াল সড়কের পরিবর্তে আরেকটি বিশেষ রেলপথ নির্মাণে সৌদি আরবের বিনিয়োগের আগ্রহ সম্পর্কেও জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টদের।

আমরা মনে করি, একই সঙ্গে বিদ্যমান রেলসেবার মানোন্নয়নেও নজর দিতে হবে। রেল যোগাযোগের মৌলিক অথচ প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সময়ানুবর্তিতা। সময়মতো ট্রেন না ছাড়ার বিষয়টি এতটাই কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে যে, এ নিয়ে প্রবাদই তৈরি হয়েছে- ‘নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়বে।’ সেবার মান ছাড়াও রেলওয়ে চালক ও কর্মচারীদের দক্ষতার প্রশ্নটিও গুরুতর। রেলের জনবল সংকটের কথা অবশ্য স্বীকার করতেই হবে। দেশের বৃহত্তম ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন খাতের এই চিত্র সত্যিই হতাশাজনক। অস্বীকার করা যাবে না, বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে রেলপথের প্রতি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের মনোযোগ ক্রমাগত বেড়েছে। আগের বিভিন্ন সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক পথেই নতুন করে রেল চলছে। গঠন করা হয়েছিল পৃথক মন্ত্রণালয়ও।

গত কয়েকটি বাজেটে রেলের জন্য আলাদা ও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দও দেখেছি আমরা। গত কয়েক বছরে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন কোচ ও ইঞ্জিন। এতে রেলপথে যাত্রী বেড়েছে, বেড়েছে উৎসাহ। যে কারণে ‘যাত্রীসেবা’ বৃদ্ধির জন্য অন্তত দুই দফায় রেলের ভাড়া বৃদ্ধিও বৃহত্তর যাত্রীসাধারণ মনে নিয়েছে। এখন যেভাবে রেলওয়ের টিকিট অনলাইনে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে, তা এক দশক আগেও অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুতি, উদ্যোগ, বাজেট বরাদ্দ সত্ত্বেও খোদ সেবা যদি না বাড়ে, তাহলে তো সবই গরল ভেল! যোগাযোগ ও পরিবহনের নানা বিকল্প সত্ত্বেও রেলের জনপ্রিয়তা এখনও কমেনি। যাত্রীসেবায় কিছুটা মনোযোগ দিলেই এর বিপুল লোকসানও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। লোকসান কমানো তো বটেই, উপযুক্ত সেবা প্রদানের মাধ্যমে রেলকে লাভজনক করাও অসম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বের পানে তাকাতে হবে না, প্রতিবেশী ভারতই রয়েছে এর নজির। আগামী দিনগুলোতে আমরা দেখতে চাইব, রেলে নিহিত এই রাঙা সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতা প্রায়োগিক পর্যায়েও প্রতিফলিত হচ্ছে।

সুত্র:সমকাল, ০৭ মার্চ ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.