শামীম কাদির:
জয়পুরহাটসহ আক্কেলপুর ও পাঁচবিবি রেলস্টেশনে গত তিন দিন থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লেগে আছে। বেশিরভাগ যাত্রী টিকিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিনা টিকিটে ছাদে উঠে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি স্টেশন থেকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা, আক্কেলপুর রেলস্টেশন থেকে নওগাঁর বদলগাছি, জয়পুরহাট স্টেশন থেকে পাঁচ উপজেলার যাত্রীরা ছাড়াও ধামইরহাট উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ ট্রেনে ঢাকায় চলাচল করে।
ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত নীলসাগর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য জয়পুরহাটসহ আক্কেলপুর, পাঁচবিবি রেলস্টেশনগুলোয় স্টপেজ রয়েছে।
জয়পুরহাটসহ আক্কেলপুর, পাঁচবিবি রেলস্টেশনগুলোয় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার জন্য ৮০টি, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৮৫ এবং দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ৭৭টি সিটের বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাট রেলস্টেশনে টিকিটের যা বরাদ্দ, তার অর্ধেক মোবাইল অ্যাপসে দেওয়া হয়। এ তিন ট্রেনে ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন সিটসহ টিকিট বিক্রি হতো ৬০০-৬৫০টি। তবে ঢাকাগামী যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনগুলোয় আসনসংখ্যা কম থাকা এবং ট্রেনে টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে টাকা ছাড়া দাঁড়িয়ে যাওয়া অনেক ভালো।
গত রবি ও সোমবার আক্কেলপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল ৯টা থেকে অনেকেই স্টেশনে আসেন ঢাকা যাওয়ার জন্য। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্টেশনের যাত্রীছাউনি পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর হতে না হতেই পুরো স্টেশন যাত্রীতে ভরে যায়। তবে ঢাকাগামী যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত ১৫-২০টি মই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয় লোকজন; তারা ঢাকাগামী যাত্রীদের ১০ থেকে ২০ টাকা করে নিয়ে ছাদে উঠিয়ে দিচ্ছে। একই চিত্র জয়পুরহাটের পাঁচবিবি রেলস্টেশনেও। যারা ছাদে উঠছেন, তাদের বেশিরভাগই টিকিটবিহীন। ছাদে নারী-পুরুষ সবাই উঠছেন নিজ কর্মস্থল ঢাকায় যাওয়ার জন্য।
স্থানীয়রা জানান, এ তিনটি রেলস্টেশনে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া, জয়পুরহাটের পাঁচ উপজেলা এবং নওগাঁ জেলার বদলগাছি, ধামইরহাট উপজেলার যাত্রীরা এসে থাকেন। এ সুযোগে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিনা টিকিটের যাত্রীদের ১০-২০ টাকার বিনিময়ে ঢাকাগামী ট্রেনের ছাদে উঠিয়ে দিচ্ছে। এখানে স্টেশন মাস্টারের প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা না থাকায় এ সুযোগ উভয়েই নিয়ে থাকে।
আক্কেলপুরের ভদ্রকালী গ্রামের ঢাকাগামী যাত্রী আলমগীর হোসেন, জয়পুরহাট সদরের জামালপুর গ্রামের আহসান হাবীব জানান, তারা দুজনই বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন, গ্রামে ঈদ করতে এসেছিলেন। অনেক কষ্টে টিকিট কেটেছেন তারা। স্টেশনে যত ভিড়, তাতে ট্রেনে উঠে সিট পর্যন্ত পৌঁছানোই দায়। ঢাকা থেকে বাড়ি আসার সময় দেখেছি, ভিড় থাকায় ট্রেনের ভেতরে টিকিট কেউ চেক করে না। তারপরও দেশকে ভালোবেশে টিকিট কেটে ভিড়ের মধ্যেই ঢাকায় যাচ্ছেন তারা।
পাঁচবিবি উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের মরিয়ম আক্তার জানান, ট্রেনের মধ্যে যে ভিড়, তাতে টিকিট কেটে কোনো লাভ নেই। তার কারণ, সব টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই বিনা টিকিটে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী পুরানাপৈল গ্রামের রুমা পারভীন জানান, আমি দ্রুতযান ট্রেনের টিকিট কেটে ভিড়ের কারণে উঠতে পারিনি। যারা বিনা টিকিটে যাচ্ছে, স্টেশনে তাদের চেক করার কোনো লোক নেই।
আক্কেলপুর উপজেলার উত্তর রোয়াইর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, স্টেশনে আজ (সোমবার) অনেক লোক ছিল ঢাকায় যাওয়ার জন্য। তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠতে পারেননি। স্টেশনে টিকিট চেক করার যদি লোক থাকত, তাহলে সবাই টিকিট কাটত। যারা টিকিট কাটেননি, তারা ঠিকই ট্রেনে উঠে চলে গেছেন।
জয়পুরহাট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান জানান, স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। যেসব যাত্রী ঢাকায় গেছেন, তারা সবাই টিকিট কেটেই গেছেন। ট্রেনের ছাদে মই দিয়ে ওঠা বা ছাদে ভ্রমণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সুত্র:শেয়ারবিজ, অগাস্ট ২০, ২০১৯