শিরোনাম

৫৪ কি.মি. রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ

৫৪ কি.মি. রেললাইন ঝুঁকিপূর্ণ

মো. এনামুল হক : তিস্তা থেকে রমনা রেললাইনে পুরাতন স্লিপার, স্লিপারের পিন ও লাইনের দু’ধারে প্রয়োজনীয় পাথর না থাকায় এবং কয়েকটি ব্রিজের পিলার ভেঙে যাওয়ায় এ অঞ্চলের প্রায় ৫৪ কিলোমিটার রেলপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন রেলযাত্রীরা।

২০ নভেম্বর ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলে চালু হয়। এছাড়া পূর্ব নির্ধারিত একটি শার্টল ট্রেন ও পার্বতীপুর থেকে রমনা লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। ২৪ ঘণ্টায় নিয়মিতভাবে ৩টি ট্রেন যাতায়াত করায় এ অঞ্চলের রেললাইনের অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় লাইন আঁকাবাঁকা হয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এছাড়া রেললাইনে কোথাও কোথাও স্লিপার নষ্ট, কোনো কোনো স্লিপারে পিন (বল্টু) নেই, নেই লাইনের দু’ধারে প্রয়োজনীয় পাথর।

২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির প্রবল স্রোতে তিস্তা থেকে রমনা স্টেশনের ৩টি ব্রিজের পিলার ভেঙে যায়। অদ্যাবধি সংস্কারের অভাবে ওই অবস্থায় রয়েছে ব্রিজগুলো। সব মিলে জোড়াতালি দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এ সেকশনের ট্রেন। তিস্তা থেকে রমনা রেললাইনটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য এলাকার মানুষজন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. কাবিল উদ্দিন জানান, লালমনিরহাটের তিস্তা জংশন থেকে কুড়িগ্রামের রমনাবাজার সেকশনে ৫৪ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এই রেলপথে এ জেলার সিঙ্গারডাবড়ী, রাজারহাট, টোগরাইহাট, কুড়িগ্রাম, পাঁচপীর, উলিপুর, বালাবাড়ী ও রমনাবাজার- এই ৮টি স্টেশন দিয়ে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। এছাড়া দিনাজপুরের পার্বতীপুর জংশন থেকে একটি মিক্সড ট্রেন সকালবেলা তিস্তা জংশন হয়ে রমনাবাজার পর্যন্ত চলাচল করে। এটি সকাল ৮টার দিকে তিস্তা জংশন অভিমুখে যাত্রা করে আবার সকাল ১০টার দিকে রমনাবাজার যায়।

এরপর ট্রেনটি দুপুর ১টার দিকে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে চলে যায়। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার দিকে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী আনা-নেয়ার জন্য একটি শার্টল ট্রেন কাউনিয়া জংশন থেকে কুড়িগ্রাম স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করে। সাধারণ যাত্রীরা এসব ট্রেনে স্বল্প ব্যয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করছেন। জেলা রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম তাজ জানান, তিস্তা থেকে রমনা রেললাইনের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তিস্তা থেকে রমনা রেললাইন ঘণ্টায় গতি ৩০ কিলোমিটার থাকলে কোনো ঝুঁকি নেই। কিন্তু ৫০-৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চললে এই লাইন ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ট্রেনের গতি বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সুত্র:যুগান্তর, ১৮ নভেম্বর ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.