শিরোনাম

১৬ বছর আগে জংশনে উন্নীত হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই

১৬ বছর আগে জংশনে উন্নীত হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই

মুজিবুর রহমান:
অবকাঠামোগতসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিদিন গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশন দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। সাধারণ রেল স্টেশন থেকে এটিকে প্রায় ১৬ বছর পূর্বে রেল জংশনে উন্নীত করা হলেও উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি প্রয়োজনীয় লোকবলও নিয়োগ করা হয়নি। ফলে দুর্ভোগকে নিত্য সঙ্গী করেই এ জংশন দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে।

গাজীপুর শহরে অবস্থান জয়দেবপুর রেল জংশনের। বর্তমানে এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনসহ দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ৭২টি ট্রেন যাতায়াত করে। এ হিসেবে এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা কমপক্ষে ১৫ হাজার। জাতীয় ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুর জেলায় বর্তমানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীসহ বিপুলসংখ্যক লোকজন ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে।

রেলওয়ের পরিসংখ্যানে রাজস্ব আয়ের দিক দিয়ে জয়দেবপুর রেল জংশনের স্থান ৫ম হলেও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ও যাত্রী সেবার দিক দিয়ে এর অবস্থান তলানিতে বলে জানা গেছে। জংশনে উন্নীত হওয়ার পর শুধু একটি প্ল্যাটফরম নির্মাণ ছাড়া জংশনটিতে অবকাঠামোগত আর কোনো উন্নয়ন এ পর্যন্ত করা হয়নি। বর্তমানে যে দুটি প্ল্যাটফরম রয়েছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় ছোটো। তাই দুটি প্ল্যাটফরমই দক্ষিণ দিকে কমপক্ষে ২০০ গজ সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি আরো একটি প্ল্যাটফরম নির্মাণ করা প্রয়োজন। জংশনের ২ নম্বর মধ্যবর্তী লাইনটিতে প্ল্যাটফরম সুবিধা না থাকায় ট্রেনে যাত্রীদের বিপজ্জনকভাবে ওঠা-নামা করতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ-শিশু ও নারীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রেল জংশনের ১ নম্বর মিটার গেজ লাইনটি ডুয়েলগেজ লাইন সংযোগসহ স্টেশনের রিসিভশন লাইনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা দরকার। এদিকে জংশনের পূর্ব পাশে আগমন ও নির্গমনে একটি মাত্র রাস্তা থাকায় যাত্রীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। ফলে অনেককে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে মালপত্র সহকারে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

রেল জংশনটিতে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা জরুরি। বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি কক্ষ থেকে দুটি মাত্র কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হয় বলে টিকিট ক্রয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময়মতো টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। জংশনটিতে শ্রেণি অনুযায়ী যাত্রী বিশ্রামাগার নেই। নেই প্রয়োজনীয় টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানি। এমনকি জংশনে অনুসন্ধান কাউন্টার নেই। জংশনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রেলওয়ে পুলিশ নেই, তেমনি নেই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীও।

আরেকটি লক্ষণীয় দিক হচ্ছে এ জংশন দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রতিদিন ১০ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করলেও আসন বরাদ্দ ১ হাজারেরও কম। প্রচুর যাত্রী থাকা সত্ত্বেও জংশনটিতে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি নেই। এসব ট্রেনগুলো হচ্ছে তিস্তা, মোহনগঞ্জ, অগ্নিবীণা, বনলতা, ব্র?হ্মপুত্র, রংপুর, পঞ্চগড় ও বেনাপোল এক্সপ্রেস। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ ৭টি ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবি জানানো হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জয়দেবপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, এ জংশনের মাধ্যমে কমবেশি ৭২টি ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে। ফলে স্টেশনের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় জংশনে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে । আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে রাজস্ব আয় এবং যাত্রী সংখ্যা ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে।

সুত্র:ইত্তেফাক, ২১ আগস্ট, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.