শিরোনাম

রেলের উন্নয়নে ধীরগতি: দুর্নীতি ও অব্যবস্থার মূলোৎপাটন করতে হবে

রেলের উন্নয়নে ধীরগতি: দুর্নীতি ও অব্যবস্থার মূলোৎপাটন করতে হবে

রেলের ৩৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি হতাশাজনক। জানা যায়, এর মধ্যে ১২টি মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ। বাকি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ২৩ শতাংশেরও কম। প্রকল্পগুলোর কোনো কোনোটি চলছে প্রায় ১০ বছর ধরে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের পর বছর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে পেরে অনেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। করছেন বিদেশ সফর। পোড়াচ্ছেন প্রকল্পের গাড়ির তেল। এ দুর্নীতি ও অপচয় মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উচিত এদিকে জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দেয়া।

রেলের দ্রুত উন্নয়নের দাবি সর্বস্তরের মানুষের। বিশ্বের প্রায় সর্বত্র যেখানে রেলব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, সেখানে আমাদের দেশে রেল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অনেক দেশে যখন ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলছে ট্রেন, তখন আমরা ১০০ তো দূরের কথা, গতিবেগ ৬০ কিলোমিটারের উপরেই তুলতে পারছি না।

দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক ইঞ্জিনও রেলওয়ের ভাণ্ডারে নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোর অধিকাংশের অবস্থা এতই সঙ্গিন যে, চলতে চলতে কখন বিকল হয়ে পড়বে তা কেউ জানে না। ওদিকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কোনো রেল সেতুরই মেয়াদ নেই। এসব সেতুর স্থলে নতুন সেতু তৈরির নিয়ম থাকলেও এ কাজে করা হচ্ছে গড়িমসি।

রেললাইনের সংস্কার হয় না দীর্ঘদিন। রেলের জমি সুযোগসন্ধানীরা যে যেভাবে পারছে অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে। এসব জমির অধিকাংশই পরবর্তী সময়ে আর উদ্ধার করতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ। দখলকৃত এসব জমিতে চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকের কারবার ও অসামাজিক কার্যকলাপ।

মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন পরই সেসব জমি আবার হয়ে যায় বেদখল। বস্তুত জোড়াতালি দিয়ে টিকে আছে আমাদের রেলব্যবস্থা। এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দরকার। এজন্য রেলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।

বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল রেলব্যবস্থা। সাশ্রয়ী ও কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের জন্য এ খাতের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বর্তমানে দেশের সড়কপথগুলো খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় রেলই হতে পারে সাধারণ মানুষের চলাচলের ভরসার স্থল।

অথচ অব্যাখ্যেয় কারণে এ খাতটিকে এগোতে দেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ আছে, এর পেছনে কাজ করছে কায়েমি স্বার্থ। আমরা মনে করি, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকারের এ ব্যাপারে কঠোর হওয়া উচিত।

এ খাতকে ঘিরে বিদ্যমান সব ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করে দেশে আধুনিক রেলব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। বাড়ানো হোক যাত্রীসেবা। এর মাধ্যমে শুধু জনগণই উপকৃত হবে না, লোকসানি খাত থেকে লাভজনক খাতে উন্নীত হবে রেলওয়ে। সরকারও প্রশংসিত হবে জনগণের কাছে।

সুত্র:যুগান্তর, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.