।। নিউজ ডেস্ক ।।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজার থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পাথর বিহীন রেলপথে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে ট্রেন। বহু বছরের পুরানো কাঠের স্লিপারগুলো পচে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রেল কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের ট্রেনের গতি কমিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। রেললাইনের নাজুক অবস্থার কারণে গত ২৮ আগস্ট এ রেল রুটে নকশীকাঁথা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে রেল যোগাযোগ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ রেল রুট দিয়ে প্রতিদিন খুলনা থেকে নকশীকাঁথা একপ্রেস মেইল ট্রেন যাত্রী নিয়ে গোয়ালন্দঘাট রেলস্টেশনে আসে। এ স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি আবারও খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া এ রুট দিয়ে প্রতিদিন কুষ্টিয়ার পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দঘাট রেলস্টেশন পর্যন্ত দুটি শাটল ট্রেন চলাচল করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ রেললাইনে ঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে চলছে ট্রেন। লাইনের ওপর রেল উঠতেই তিন থেকে চার ইঞ্চি দেবে যায় স্লিপার। উঁচু-নিচু আর আঁকাবাঁকা রেললাইনে নেই পাথর। অধিকাংশ ফিসপ্লেট জং ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে। খুলে গেছে সংযোগ পয়েন্টের নাট-বল্টু। বহু বছরের পুরানো কাঠের স্লিপারগুলো পচে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত ১০ বছরে সারাদেশে রেলের উন্নয়নে সরকারের খরচ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। অথচ সেসব উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও লাগেনি রাজবাড়ীর এ রেল লাইনটিতে। ঝুঁকিপূর্ণ এ রেললাইনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার জানান, এ রেললাইনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। রেললাইনে পাথর নেই। কাঠের স্লিপারগুলো ব্রিটিশ আমলের। এর বেশিরভাগ পচে গেছে। রেললাইনে নাট-বল্টু নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। খুব দ্রুত লাইনটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের ছাত্র আরিফ, সবুজ, সিজান, আবির জানায়, রেললাইনের পাশ দিয়ে তাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। যখন হেলে-দুলে ট্রেন আসে তখন মনে হয় যেন গায়ের ওপরে পড়ে যাবে। অনেক ভয়ে থাকতে হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, গোয়ালন্দ বাজার থেকে গোয়ালন্দ ঘাট-দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত রেললাইনটি অনেক পুরানো। ঝুঁকি বিবেচনায় এ রুটে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে চালকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। লাইনটি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে। যথাসময়ে হয়তো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট