।। নিউজ ডেস্ক ।।
কম খরচে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পরিবহনের লক্ষ্যে ২০২০ সালে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে এই বিশেষ সেবায় শুরু থেকেই তেমন আগ্রহ নেই আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের। ট্রেনটিতে চার বছরে আয়ের চেয়ে লোকসান হয়েছে বেশি। এ সময় আম ও কোরবানির পশু পরিবহন করে শুধু ডিজেল খরচ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। আর আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা। তাছাড়া আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব নেই কারও কাছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ দিন চলে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। এতে আয় হয় ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৬ টাকা। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৬৫ টাকা। প্রতিদিন ট্রেন চলাচলে লাগে দুই হাজার লিটার ডিজেল। এই হিসাবে ৪৬ দিনে ট্রেনের ডিজেল খরচে আসে ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ওই বছর তেলেই লোকসান হয় ৪৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৪ টাকা। পরের বছর ২৭ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৫০ দিন চলে ট্রেনটি। ৮০ টাকা লিটার হিসাবে সে বছর এই ট্রেনে তেল খরচই হয় ৮০ লাখ টাকা। আম ও কোরবানির পশু পরিবহন করে আয় হয় ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা। লোকসান হয় ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২ টাকা।
২০২২ সালের ১৩ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত আট দিন চলে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। ৮০ টাকা লিটার হিসাবে এই ক’দিনে ডিজেল খরচ হয় ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকার। এই আট দিনে আম ও পশু পরিবহন করে আয় হয় ২ লাখ ১২ হাজার ১৭৪ টাকা। আর লোকসান হয় ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৬ টাকা। চলতি বছরের ৮ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ১৮ দিন চলেছে ট্রেনটি। ১০৯ টাকা লিটার হিসাবে এই ক’দিন ট্রেন চালাতে ডিজেল খরচ হয়েছে ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকার। আম ও কোরবানির পশু পরিবহন করে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫০২ টাকা। এতে ৩৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৮ টাকা লোকসান হয়েছে।
লোকসানের কারণ জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল হাসান কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রথমে তিনি বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা একবার যাওয়া-আসা করতে এই ট্রেনের দুই হাজার লিটার ডিজেল লাগে।’ পরে বলেন, এই ট্রেনের তেলের কোনো রেশনিং বা বরাদ্দ নেই।
সূত্রঃ সমকাল