।। নিউজ ডেস্ক ।।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যেতে ছেলেকে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষায় ছিলেন এক মা। ট্রেন এসে স্টেশনে থামতেই তড়িঘড়ি করে উঠে পড়েন তিনি। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই ট্রেন ছেড়ে দিলে মা তাকিয়ে দেখেন ছেলে ট্রেনের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনে উঠতে পারেনি তার সন্তান। তাই ছেলের জন্য চলন্ত ট্রেন থেকেই প্ল্যাটফর্মে ঝাঁপ দেন মা। এতে ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন শারমিন আক্তার মিতু (৩৫) নামের ওই নারী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহত শারমিন আক্তার মিতু বরিশালের কাজীরহাট এলাকার তন্ময় আহমদের স্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকায় যেতে ছেলেকে নিয়ে শনিবার রাতে প্লাটফরমে অপেক্ষায় ছিলেন মা। ট্রেন এসে স্টেশনে থামতেই তড়িঘড়ি করে উঠে পড়েন মা। তবে দুই মিনিটের মধ্যেই ট্রেন ছেড়ে দিলে মা তাকিয়ে দেখেন ছেলে ট্রেনের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে। প্লাটফরম থেকে ট্রেনে উঠতে পারেনি তার সন্তান। তাই ছেলের জন্য চলন্ত ট্রেন থেকেই প্লাটফরমে ঝাঁপ দেন মা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাকিব আহসান বলেন, ভানুগাছ থেকে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে যখন নিজের বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে আছি, তখন দেখি একটা ছেলে নিচ থেকে ট্রেনে উঠতে অনেক চেষ্টা করে। ওই সময় তার মা দৌড়াতে দৌড়াতে আমার ছেলে কোথায় বলে ট্রেন থেকে প্লাটফরমে ঝাঁপ দেন।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার কবির আহমেদ বলেন, আহত নারীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেদুল করিম বলেন, আহত নারীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি হাত-পা ও কোমরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালের ট্রমা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।