।। নিউজ ডেস্ক ।।
আগামী ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম এবং ১৩ আগস্ট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে ট্রেন চালকরা। তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে ২৮ আগস্ট থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেবেন। এর আগেই দাবি না মানা হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এদিকে অযৌক্তিক বলে ট্রেনচালকদের দাবি নাকচ করেছে অর্থ বিভাগ। তবে রেল বিভাগ বলছে, দ্রুততম সময়ে সংকটের সুরাহা না হলে সারা দেশে রেল চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। এতে ভোগান্তির শিকার হবেন রেলযাত্রীরা। এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসাবে
সূত্র জানায়, মাইলেজ সুবিধা চেয়ে ১ আগস্ট রেলওয়ে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনরত ট্রেনচালকরা। এতে বলা হয়, রেলে ১৬০ বছর রেলওয়ে ‘কোডিফাউড রুল’ অনুযায়ী অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় মূল বেতনের বিপরীতে পেনশন ও আনুতোষিক আর্থিক সুবিধা চালকসহ রানিং স্টাফরা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রেলওয়ে রানিং স্টাফদের মাইলেজযোগে পেনশন ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার সুবিধা প্রদানে অসম্মতি জানায়। একনাগাড়ে একজন চালক ও গার্ড ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেন চালাচ্ছেন। ৮ ঘণ্টার বেশি চালানোর পর মাইলেজ (মাইলপ্রতি) হিসাবে তারা টাকা পান।
রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার বিকালে বলেন, ট্রেনচালকসহ রানিং স্টাফদের সব দাবির প্রতি আমরা সহনশীল। তাদের দাবি অনুযায়ী সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকও হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিয়ে আবার বৈঠকে বসা হবে। এ নিয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক কাজ করছেন। আমরা আশা করছি, আগামী বৈঠকে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। চালক ও রানিং স্টাফদের বলব, তাদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমরা আছি। বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, ১৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের কর্মচারীদের বেতন-ভাতার কাঠামো স্বতন্ত্র। কিন্তু নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোয় ‘মাইলেজ’ সুবিধা বঞ্চিত করায় ট্রেনের চালক ও গার্ডরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মাইলেজের সুবিধা কমানোর প্রতিবাদে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। দাবি আদায়ে প্রায় ২ বছর আন্দোলন করছেন। প্রতিবারই সংশ্লিষ্টরা দাবি বাস্তবায়নে আশা ও প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ৭ আগস্ট চার রেলওয়ে বিভাগীয় প্রধানদের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, দাবি মানা না হলে ২৮ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কোনো ট্রেন চলবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ১ আগস্ট চূড়ান্তভাবে রেলওয়ে মহাপরিচালককে স্মারকলিপি দিয়েছি। ২ আগস্ট আমাদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই দাবি মেনে নেবেন কিংবা অর্থ বিভাগের যে অসম্মতি তা বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু আমরা সাড়া পাচ্ছি না। ফলে আন্দোলনের অংশ হিসাবে আগামী ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এবং ১৩ আগস্ট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ডাকা হয়েছে। সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে রানিং স্টাফদের সবাই উপস্থিত থাকবেন। ওই সমাবেশ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
আন্দোলনরত স্টাফরা জানান, ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর এক অনুশাসনে তাদের মাইলেজ (রেলের আইন অনুযায়ী) পাওয়ার কথা বলা রয়েছে। তাদের পক্ষে আদালতের রায়ও রয়েছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে রেলের মাইলেজ সুবিধা নতুন করে নির্ধারিত করা হয়। যা রেলওয়ে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বেসিকের সঙ্গে ৭৫ শতাংশ টাকা যোগ হচ্ছে না।
জানা যায়, রেলে ট্রেনচালক স্বল্পতা চরমে উঠেছে। ২৫শ ট্রেনচালকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৯শ চালক। একনাগাড়ে একজন চালক ও গার্ড ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেন চালাচ্ছেন। ৮ ঘণ্টার বেশি চালানোর পর মাইলেজ (মাইলপ্রতি) হিসাবে তারা টাকা পান। রেলে চালক সংকট থাকায় তারা এ সুবিধা পান। আর ট্রেনে অর্ধেকেরও কম গার্ড রয়েছেন। এছাড়া এক যুগে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০ চালক এবং ২ হাজার ৫০০ গার্ড প্রয়োজন।
রেলওয়ে মহাপরিচালক প্রকৌশলী কামরুল আহসান বলেন, তাদের এমন আন্দোলন করা ঠিক হবে না, যাতে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। তাদের দাবি বাস্তবায়নে আমরা একের পর এক বৈঠক করছি। বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকছেন। আমরা চাই, তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন হোক।
সূত্রঃ যুগান্তর