।। নিউজ ডেস্ক ।।
ঢাকামুখী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে গত ১৯ ডিসেম্বরে দুর্বৃত্তদের লাগানো আগুনে চারটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নিহত হন ট্রেনের চার যাত্রী। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ঢাকামুখী আরেক ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেসে। এ ঘটনায় পুড়ে যায় ট্রেনটির তিনটি কোচ। এ ঘটনায়ও দগ্ধ হয়ে চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুটি ঘটনা নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন দুটির তথ্য অনুযায়ী, দুই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪৯ হাজার ২০৯ টাকা। এ ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি কোচে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই ঘটনায় ট্রেনটির তিনটি বগির বৈদ্যুতিক মালপত্র পুড়ে আরো ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে ১৮ জন রেলকর্মী দায়িত্বরত ছিলেন। এতজন কর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রেনে আগুন দেয়ার ঘটনাটি ছিল দুষ্কৃতকারীদের পরিকল্পিত সহিংসতা বা নাশকতা।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে প্রথমেই বলা হয়েছে ট্রেনে যাত্রী ওঠার আগে টিকিট যাচাই এবং বিনা টিকিটের যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে না দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়টিতে বলা হয়েছে, রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তৎপরতাকে আরো দৃশ্যমান করতে হবে। তৃতীয়ত, এ ধরনের নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থ সুপারিশে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ও জংশনে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্টেশনে প্রবেশের মুখে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে। সর্বশেষ সুপারিশে ট্রেনে দায়িত্বরত কর্মীদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনাকালীন করণীয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময় পরপর সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।
বেনাপোল এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ঘটনায় গঠিত রেলপথ মন্ত্রণায়ের আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাশকতার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের জন্য এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ট্রেনটিতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী দুষ্কৃতকারীদের।
বেনাপোলের এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ এসেছে। এর বেশির ভাগের সঙ্গেই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে একটি সুপারিশ। এতে বলা হয়েছে, ট্রেনের প্রত্যেক কোচে পর্যাপ্তসংখ্যক সচল অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে।