।। নিউজ ডেস্ক ।।
রাজশাহীগামী ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রার মাধ্যমে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। প্রতিবারই ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ থাকলে এবার তেমনটি দেখা যায়নি।
গতকাল সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, লাইন ধরে প্লাটফর্মে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। এ সময় যাদের কাছে টিকিট ছিল না, তাদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল না। এবারের ঈদ যাত্রায় টিকিটের ব্যবস্থা শতভাগ অনলাইন পদ্ধতিতে চালু করার কারণে বিগত সময়ের মতো স্টেশনে রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি যাত্রীদের। তবে যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেননি, তাদের জন্য স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে সেখানেও তেমন ভিড় নেই। সহজেই টিকিট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন তারা। অবশ্য স্টেশনে ঢুকতে ৩টি তল্লাশি চৌকি পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সরেজমিন দেখা যায়, স্টেশনের ভেতরে নেই হট্টগোল। টিকিটধারীরা নির্ধারিত ট্রেন এলেই উঠছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ট্রেনের শিডিউলে তেমন সমস্যা হয়নি।
রাজশাহীগামী যাত্রী সুলতান এবারের ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন, আগের থেকে এবার ঈদযাত্রা ভালো লাগছে। আমি অনলাইনে দুটো টিকিট কিনেছি। চট্টগ্রামগামী যাত্রী ফয়সাল মাহমুদ বলেন, অনলাইনে টিকিট সিস্টেম করার ফলে আমাদের ভোগান্তি অনেক কমে গেছে। আগে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট মিলতো না।
স্টেশনের দায়িত্বশীলরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহী অভিমুখী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য সাহরির পর পরই স্টেশনে এসেছেন পারাবত এক্সপ্রেসের যাত্রী মাহমুদ। তিনি সিলেট যাবেন। কিন্তু অনলাইনে টিকিট পাননি। মাহমুদ বলেন, এবার আমি অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি। যেহেতু গ্রামে যেতে হবে, তাই স্ট্যান্ডিং টিকিট পেতে আজ এসেছি। বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, টিকিট পেলে আজই চলে যাবো।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এবার আন্তঃনগর ট্রেনে ৩০ হাজার যাত্রী গ্রামে যাবেন। তারা প্রত্যেকে এরই মধ্যে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। যারা টিকিট পাননি, তাদের জন্য আরও ১৫ হাজার স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনে এবার প্রায় ৪৫ হাজার যাত্রী প্রতিদিন যাত্রা করবেন।
এ দিকে, কমলাপুর স্টেশনে টিকিট ছাড়া কেউ প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না। টিকিট না থাকলে তাকে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনে স্টেশনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গত রোববার দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সাতটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন রেক প্রস্তুত করে বাতিল হওয়া ট্রেনটি ১৯ এপ্রিল সকাল ৮টায় ঢাকা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এবার ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা সাতটি ট্রেন রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে থামবে না। ট্রেনগুলো সরাসরি কমলাপুর স্টেশনে চলে যাবে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে না।
এর আগে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীর ট্রেনে ভ্রমণ করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রত্যেক যাত্রীকে টিকিট প্রদর্শনপূর্বক স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। টিকিটবিহীন যাত্রীর প্রবেশ বন্ধে ঢাকামুখী ট্রেনগুলো এবার ঈদযাত্রায় বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে না।
সূত্র: নয়াদিগন্ত