শিরোনাম

গত পাঁচ বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু দুই শতাধিক


।। নিউজ ডেস্ক ।।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ছয় মাসে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন ফতেহ মোহাম্মদপুর ফুটবল মাঠের সামনে রেললাইনে কামরুদ্দীন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে গত ৬ জুলাই সাঁথিয়ার ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন জামিরুল ও বাবু নামে দুই ভাই। কর্তৃপক্ষ বলছেন, জনসাধারণের নিজেদের তৈরি করা অবৈধ গেট দিয়ে বেপরোয়া চলাচল, শখ করে বা বেড়ানোর উদ্দেশে রেললাইনে হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ রেললাইনে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ায় মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।

অরক্ষিত এ লেভেলক্রসিংয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শুধু প্রভাকর পাড়া নয়, পশ্চিম রেলে এমন শত শত বৈধ ও অবৈধ লেভেলক্রসিং অরক্ষিত। এসব লেভেলক্রসিং এখন মৃত্যুফাঁদ। এসব লেভেলক্রসিংয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছেন। শুধু রেলওয়ের পাকশী বিভাগের অধীনে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলেই বছরে ৩০ থেকে ৪০ জন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। সে হিসাবে গত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃদেশীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন বাদে পশ্চিমাঞ্চল রেলপথে ৫২টি আন্তঃনগর, ছয়টি লোকাল ও ৩১টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। পাকশী বিভাগের অধীনে রেলরুটে কমপক্ষে ৭০০ রেলওয়ের অনুমোদিত বা নিজস্ব লেভেলক্রসিং রয়েছে। এছাড়া জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ গেট বানিয়ে চলাচলের রাস্তা বের করেছেন। জনসাধারণের বানানো গেটসহ রেলের নিজস্ব কয়েকশ লেভেলক্রসিং অরক্ষিত। এসব লেভেলক্রসিং এখন রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। লেভেলক্রসিংয়ে জনসাধারণ ইচ্ছামতো চলাচল করায় এবং কোনো গেটম্যান থাকায় অহরহ ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এভাবে গত ৫ বছরে দুই শতাধিক মানুষ ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগ না থাকায় মামলা হচ্ছে না এবং মৃত্যুর প্রকৃত পরিসংখ্যানও নিরুপণ করা যায় না। এজন্য ট্রেনে কাটা পড়ে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। চলাচল করে যানবাহন।

পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সূফি নূর মোহাম্মদ ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পাকশী বিভাগের অধীনে ৬০০-৭০০ লেভেলক্রসিং রয়েছে। জনবল কম থাকায় সব জায়গায় গেটম্যান দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেগুলোতে গেটম্যান নিয়োগ করা আছে সেগুলোতে সার্বক্ষণিক গেটম্যান থাকেন। তাদের কোনো অবহেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না। জনসাধারণ নিজেরাই বিভিন্ন স্থানে গেট বানিয়ে চলাচলের রাস্তা বের করেছেন। আবার অনেকে শখ করে বা বেড়ানোর উদ্দেশে রেললাইনে হাঁটেন। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়েন। এসব নানা কারণে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, জনসাধারণের বানানো গেট বন্ধ করতে গেলে জনপ্রতিনিধিরা বাধা দেন। আবার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বললেও তারা জনপ্রতিনিধিদের রেফারেন্স দেন। জনবল সংকটসহ এসব নানা কারণে সমস্যাটি জিইয়ে রয়েছে। তারপরও আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।

Comments are closed.