।। নিউজ ডেস্ক ।।
সারাদেশের সঙ্গে কক্সবাজারকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষদিকে। সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত এই প্রকল্পের কাজ ৮৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১৪ শতাংশ কাজ শেষ হলেই রেলপথে স্বপ্ন দুয়ার খুলবে কক্সবাজারের। আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগোচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক উচ্চগতির মিটারগেজ কোচ দিয়ে নতুন ট্রেনের বগিগুলো সাজানো হচ্ছে। ১৪৭টি মিটারগেজ কোচের ট্রায়াল রান চলছে চট্টগ্রাম–ঢাকা রেলপথে। তবে বাণিজ্যিক ট্রেন চালু হবে আরও কয়েক মাস পর।
রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের জন্য চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত আগে থেকেই রেললাইন আছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে পারবো। সেপ্টেম্বর ফিনিশিং ওয়ার্কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে আমরা ট্রায়াল রান উদ্বোধন করতে পারব।
কক্সবাজার রুটে ভাড়া ঢাকা হতে নন এসি ৭০০-৮৫০ টাকা, এসি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সেমি ননস্টপের নন এসি ভাড়া ২০০ টাকা, এসি ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা। লোকালের ভাড়া ৯০-১২০ টাকা। কেবিন ভাড়া ঠিক হয়নি।
জানা গেছে, কক্সবাজার রুটে ১৫-১৬টি বগি নিয়ে চলবে ট্রেন। ট্রেনগুলোতে পাওয়ার কার কোচ, কেবিন, এসি চেয়ার, এসি বার্থ, শোভন চেয়ার, গার্ড র্যাক, ব্যুফে কার সাজানো হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত এই রেলপথের ৮৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। কক্সবাজারে ছয় তলাবিশিষ্ট রেলস্টেশনের কাজের অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮৬ শতাংশ। অবশিষ্ট ১৪ শতাংশ কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর নাগাদ রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রেলওয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস চালু করতে চায়। নতুন আসা কোচ দিয়ে ট্রেন সার্ভিস চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্বোধনের পর এক বা একাধিক ট্রেন চালানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে শুরুতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রেন চালানো সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে ট্যুরিস্ট কার ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণির ট্রেন সার্ভিস বাড়ানো হবে।
সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ঝিলংজা এলাকায় ২৯ একর জমিতে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি দেখতে এখনই অনেক দর্শনার্থী ভিড় করছে। দৃষ্টিনন্দন স্টেশনটি ইতালি, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক স্টেশনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নির্মাণ পরিকল্পনা দৃশ্যমান।
এখন চলছে শেষ সময়ের গ্লাসসহ অন্যান্য ফিটিংসের কাজ। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্টরা।